কবিতাগুচ্ছ / দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়

November 23, 2011
স্বীকারোক্তি


কী হবে কবিতা লিখে শস্যনষ্টকারী পোকা হয়ে
এ জীবন খেয়ে যায় তারা
মদশূন্য বোতলের মধ্যে পুরে বিক্রি করে দেয়
ভিখিরির গান করে ঘোরায় শহর
অচল পয়সার মতো ফেলে রাখে কাঠের কৌটোয়

কী হবে কবিতা লিখে যখন মার্জার
মাছ মনে করে
নিয়ে যাবে মুখে তাকে? কী হবে কবিতা লিখে বলো
ফাটা বেলুনের মতো কী হবে শিশুর কান্না শুনে?

এ জীবন বালিময় দীর্ঘপথে উট হয়ে হাঁটে
খেজুরের কাঁটা বিঁধে যায়

এ জীবন আপেলের মতো কোনও প্ররোচক ফল

এ জীবন কুসুমের মতো, এ জীবন
শশী ডাক্তারের গাওদিয়া গ্রাম আর
এ জীবন রঙিন কাঁকড়ার
বালির ক্ষণিক তলে শুয়ে থাকা শুধু

জীবন ভ্রমর আর জীবন রোহিনী

জীবন মৃত্যুর কাছে আঠালো জেলির মতো লেগে থাকে যেন

নিশিযোগে যদি ফোটে রাতরানী, ঈর্ষাকাতরতা
গ্রাস করে তোমার হৃদয়?




যা কিছু ঈশ্বর

গোধূলি রঙের সাপ আমাকে জড়ায়, ছুঁড়ে ফেলে
গভীর বনের দিকে, এই তার খেলা
এবং নিসর্গ বলে কিছু নেই, ময়ূরেরা স্বপ্নে আসে যায়
ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নেই আর সমুদ্রে, বালিতে
হিংস্র গোলাপের দিন ফিরে এল, হে পতঙ্গভূক!

কে তুমি ডিমের মধ্যে সুবর্ণকুসুম?
অন্ধকারে কার ছায়ামূর্তি ঘুরে যায়?




সুবর্ণগোলক

সব ঘড়ি জল
শূন্য তবু তার পাশে লিখি চির নৌকা এক

দূরে বসে আছ তুমি ধোঁয়া ওঠা উজ্জ্বল বিকেল

গাছের বাঁকানো ডাল মনে হয় চাহনি তোমার

সমস্ত চাহনি আমি ঈর্ষা করি ঈর্ষাণ্বিত একা
ভেবেছি রেডিয়ো শুনে বয়ে যাবে ফ্যাকাশে দুপুর

সুবর্ণগোলক তবু ছুটে গেলে জেগেছিল লোভ

একাকী অন্ধের মতো ছুঁয়ে আছি তোমার রঙিন

প্রতিটি লেখার শেষে তীব্র জ্বলে বেড়ালের চোখ




নতুন লেখা

নতুন কবিতা লিখব, নেচে উঠবে স্বর্গ মধ্যমায়
প্রতিটি তুড়িতে আমি ফোটাব রঙিন ফুল, ডানা

সুন্দর ও অসুন্দর ভালো বন্ধু, রাত হলে একসঙ্গে ওরা
জেগে ওঠে, খুনসুটি করে

সব তেজী ঘোড়া
আস্তাবল চূর্ণ করে বেরিয়ে পড়েছে
দল বেঁধে ঢুকে যাচ্ছে শহরের যত পানশালায়

সবুজ আলোর মধ্যে গড়িয়ে চলেছে কত বল
যেইমাত্র ধরতে যাচ্ছ সঙ্গে সঙ্গে হড়কে যাচ্ছে আর
অন্ধকারে উড়ছে তিতিরেরা

এবার এমন লেখা লিখতে হবে যা মৃত্যুর মতো

স্তনে তার মথ




গুপ্তপোকা

বসন্তের মথ আমি পুনর্বার উড়ি অন্ধকারে
জ্যোৎস্নায় লালসা বাড়ে ছুটে চলে যুবক বেড়াল
আমি তার ক্ষিপ্র নখ ছিঁড়ে আনি তোমার শরীর
গানের ছলনা আমি ফুলের বাগানে গুপ্ত পোকা

মেধার যন্ত্রণা আমি বনপথে তামাশা শিকারী
কমলা রঙের কোয়া চাঁদ এক ঢেলে দিচ্ছে আলো
খাঁচাবন্দী পাখি কোনও হাহাকার করে, ডেকে ওঠে
আমি তার ব্যর্থ ভাষা পুনর্বার উড়ি অন্ধকারে

সুরাপাত্র আমি কার আমি কার প্রিয় মধু ফল
মাতালের কান্না আমি, ক্ষমার সকল ইচ্ছা নিয়ে
কার্পেট সভ্যতা ছেড়ে নতুন লেখার দিকে যাই

হিম অন্ধকারে আমি এ শহরে কেটেছি সাঁতার




সমাধিক্ষেত্রের লেখা

মৃত মানুষেরা সব ঘুমোচ্ছে এখানে

জেগে ওঠো হে কচ্ছপ

পাত্র ভরে মাধ্বী জ্বলে সান্দ্র সন্ধ্যা নেমেছে এবার

অজিন জড়িয়ে আমি বসে আছি বীতকাম ডানা

পৃথিবীর

শেষ পাখি উড়ে গেল ছিন্ন করে সমস্ত বিতংস
                                       অন্ধকার

 

 

কবিতাগুচ্ছ / নওশাদ জামিল

October 11, 2011
blog comments powered by Disqus
blog comments powered by Disqus
 

This free website was made using Yola.

No HTML skills required. Build your website in minutes.

Go to www.yola.com and sign up today!

Make a free website with Yola